হাসপাতাল ডায়েরি ১

অসহ্য পেটে ব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙল নীরজার। প্রচণ্ড ব্যাথা। বুঝতে পারছে যে বিছানায় সে আর লম্বালম্বি হয়ে শুয়ে নেই। কুঁকড়ে গেছে শরীরটা। তলপেটের নিচের দিকে একটা ভারী চাপ। ভীষণ চাপ। থেকে থেকেই দপদপিয়ে উঠছে। এ যন্ত্রণা সহ্য করবার মত নয়। কি করবে সে? বাড়িতে, নিজের বিছানায় শুয়ে এই ব্যাথার মোকাবিলা করবে কি করে? পাশ ফিরে অসীমকে ডাকতে যাবে কিন্তু দেখে সেখানে কেউ নেই। ঘরের নিভু নিভু আলোতে ভালো করে দেখে নেয় নীরজা। নাহ, নেই তো। কি অদ্ভুত লোক রে বাবা! সে জানে নীরজার শরীর ভালো নেই আজ প্রায় মাস তিনেক হল, তার ওপর থেকে থেকে রাতে বোবায় ধরে। পই পই করে বলে দিয়েছিলো রাতে খুব বেশিক্ষণের জন্য বাইরে না যেতে। বোবায় ধরলে পাশে কেউ না থাকলে বেশ অসুবিধে হয় জ্ঞান ফিরতে। এদিকে পেটে ব্যাথা তার ওপরে অসীমের অনুপস্থিতি এই দুইয়ে বেশ বিরক্ত হয়ে সে ভাবে জোরে নাম ধরে ডাকবে। কিন্তু খানিক পরেই লক্ষ করে অসীম যেন পাশেই বসে আছে। Continue reading “হাসপাতাল ডায়েরি ১”

আদিরার গল্প

দাস বাড়ির একমাত্র মেয়ে আদিরা। দেখতে যেমন মিষ্টি তেমনি তার স্বভাব। আসলে দেখতে মিষ্টি কথাটার কি অর্থ সেটা আমার জানা নেই। তোমরা হয়ত বলবে যে মিষ্টি মানে রসগোল্লা, আর তাই আদিরাকে দেখলে নিশ্চই রসগোল্লার কথা মনে হয়। ওদিকে আমি বলব হ্যাঁ আবার না। অর্থাৎ আদিরাকে দেখে রসগোল্লার কথা মনে এলেও সে আকারে একেবারেই গোল নয়। বরং এটা বলতে পারি যে, যদি তোমাদের রসগোল্লা নামক খাবারটি বিশেষ ভালো লাগে তাহলে ওটি খাবার পর মনে যেমন একটা পরিতৃপ্ত ভাব আসে ওর সাথে কথা বললেও ঠিক এমনটিই মনে হয়। ঠিক যেমন বড়মামা একতাল খাবার খেয়ে, পেটে হাত বুলিয়ে, ঢেকুর তুলে টুপ করে দিদার বানানো পানটি মুখে পুড়ে আরাম করে বলে, ‘আহ!!!’, ঠিক তেমনি। Continue reading “আদিরার গল্প”

‘অপার্থিব’

এই গ্রাফিক আর্টটি অনিন্দ্য সেনগুপ্তর লেখা কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস ‘অপার্থিব’-র পাঁচটি মুখ্য চরিত্র – দারিয়াস মজুমদার, সোহরাব ঘানি, ইলানা ঈৎজাক, ইকিরা কিরোভা এবং রোজবাড – কে কেন্দ্র করে তৈরি। এ মাসের শেষেই বইটি বেরোচ্ছে। ততদিন আর্টওয়ার্ক চলুক।

বইটি প্রকাশ করছে বৈভাষিক প্রকাশনী।

পোস্টে ব্যবহৃত কিছু ইমেজের লিংক – প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ

Darius Majumder copy Continue reading “‘অপার্থিব’”

In Death We Unite

Life starts where fairy tale ends…there comes a time when the world of fantasy, wish fulfillment, indulgence, all comes to an end…the fairy godmother stops coming to you…the pumpkin chariot no longer exists…no longer you can see those giants whom you slay with your vorpal sword…reality dissuades dreams and you find that you no longer belong there…either it breaks or you know it’s not real… Continue reading “In Death We Unite”

আপন এবং অযাচিত

১।
অনিন্দ্য দার সাথে আমার প্রেমের সূত্রপাত চিঠিতে। চিঠিতে অনেক কথা বলা যায় যা সামনাসামনি মাথায় থাকে না। আমার প্রেমের চিঠি লিখতে ভালো লাগে। পেতেও ভালো লাগে। লম্বা লম্বা চিঠি যেগুলো পড়ে নিজের সম্বন্ধে এক ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সেই ধারনাগুলো বড়ই মধুর। তাই প্রেমে পড়লেই আমি চিঠি লিখি। অনিন্দ্য দা’র সাথে আমার একটা ব্লগ-ও ছিল। সেখানে শুধুই একে অপরের জন্য লেখা কবিতা এবং গদ্য থাকত। সেই ব্লগে অন্যের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
এই কথাগুলো দিয়ে কেন শুরু করলাম? নিতান্তই ব্লগটা খুলব বলে এসব কথা বলা। আগের ব্লগ আর এটির মধ্যে যে প্রায় বছর দশেকের ব্যবধান সেটাই বলতে চাইছি। আর এর মধ্যে, মানুষ হিসেবে আমি যে অনেক পাল্টেছি সেটাও বলতে চাওয়া। আগে প্রেমের ধারণা যা ছিল তার থেকে অনেকটাই পাল্টেছে। এখন আমি বিশ্বাস করি, যে দুজন মানুষের একে অপরকে চাওয়ার উর্ধেও প্রেম আসলে একটা রাজনৈতিক সম্পর্ক। তাই প্রেমপত্রগুলো রইল শুধুই প্রেমিকদের জন্য। আর বাকি সব লেখা আমার। শুধুই আমার। Continue reading “আপন এবং অযাচিত”